সরকারি পরিষেবা পেতে ২০২৪ সালে দেশের ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ ঘুষের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-খাতে ৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং পাসপোর্ট অফিসে ৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর নাগরিক ধারণা জরিপ (সিপিএস) ২০২৫-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সব জেলার মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিএস। বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস।
জরিপ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে সরকারি সেবা পেতে যে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষের সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের মধ্যে পুরুষ উত্তরদাতা ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নারী উত্তরদাতা ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ঘুষ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও সরকারি সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ মানুষ। এর মধ্যে ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক শিক্ষা এবং ৭৮ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান। স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৭২ দশমিক ৬৯ শতাংশ সেবাগ্রহণকারী।
এ ছাড়া যে কোনো জাতীয় ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার বিষয়ে ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ নাগরিক স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন বলে মনে করেন। তাদের মধ্যে নারী মাত্র ২৩ দশমিক ০২ শতাংশ এবং পুরুষ ৩১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সরকারের বিষয়ে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ব্যাপারে হার শহর ও গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রায় সমান। গ্রামাঞ্চলের ২৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে, ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ নাগরিকের বিশ্বাস, তারা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। তাদের মধ্যেও বড় ধরনের লিঙ্গ বৈষম্যের তথ্য উঠে এসেছে, পুরুষের হার ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং নারী মাত্র ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২৪ শতাংশ ৬২ নাগরিক বিশ্বাস করেন যে দেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিক্রিয়াশীল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রামাঞ্চলের তুলনায় নগরাঞ্চলের মানুষ এবং নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।


