‘আজকে থেকে তুমি পুলিশ বাসায় করে রাখিও। ১০০ জন পুলিশ থাকলেও তোমারে গুলি করে মেরে ফেলব। ১০ লাখ টাকা বলছিলাম না, ২০ লাখ টাকা নিবো তোমার থেকে’, চট্টগ্রামের এক চিকিৎসককে হোয়াটসঅ্যাপে এমন হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। শুধু ওই চিকিৎসকই নন, একই কায়দায় ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করছিল একটি চক্র।
চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। সোমবার রাত ২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী এবং হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরের চারটি মুঠোফোন ও চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক সাহস করে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০)।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি ও একটি টিপছোরা রয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মুঠোফোনে বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হতো। এসব বার্তায় রায়হান, বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনসহ বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ভয় দেখানো হতো।
পুলিশ জানায়, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চক্রের সদস্যরা বিদেশি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর লক্ষ্য করা ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হতো।
সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপের একটি বার্তায় বলা হয়, ‘১০০ জন পুলিশ থাকলেও’ তাকে গুলি করে মারা হবে। পরে ওই চিকিৎসক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
একইভাবে নগরের বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও চাঁদা দাবি, হুমকি, গুলি করা হয়।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের মতো পরিচিত সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করতেন। তবে তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ওই নামগুলো ব্যবহার করে তারা নিজেদের একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর তাদের মুঠোফোন নম্বরে বিদেশি নম্বর থেকে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় দিতেন। চাঁদা না দিলে হামলা, গুলি বা হত্যার হুমকি দেওয়া হতো।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি চলছিল। একইভাবে অন্য সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করেও ভয় দেখানো হতো।
চিকিৎসকের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশে হাটহাজারী থানা-পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যও তদন্তে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


