কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী ও সংলগ্ন সাগর মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে আবারও নয়জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ সময় জেলেদের ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাও নিয়ে গেছে তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সাগর এলাকা থেকে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে।
অপহৃত জেলেরা সবাই টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন মনজুর আলম (২৮), মো. আব্দুল্লাহ (২৬), মো. আনোয়ার (২৭), ওমর ফারুক (১৭), জাফর আলম (১৬), কবির আহমেদ (৫৫), মো. রাসেল (২৬), জসিম আহমেদ (১৮) ও মো. ইব্রাহিম (২১)।
সর্বশেষ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গত ১০ মাসে নাফ নদী ও সেন্টমার্টিন উপকূলবর্তী পানিসীমা থেকে অন্তত ৩৭৫ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করা হলো।
স্থানীয় জেলে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে ওই জেলেরা শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সাগরে মাছ ধরছিলেন।
এ সময় একটি স্পিডবোটে করে আসা আরাকান আর্মির সদস্যরা হঠাৎ তাদের ধাওয়া দেয়।
এক পর্যায়ে নয়জন জেলেসহ দুটি নৌকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তারা মিয়ানমার সীমান্তের দিকে চলে যায়।
এর আগে, গত ৫ ডিসেম্বর নাফ নদী সংলগ্ন ঝিমংখালী এলাকায় মাছ ধরার সময় আরও ছয়জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল আরাকান আর্মি।
স্থানীয়দের মতে, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক সময় জেলেরা অজান্তে সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। সেই সুযোগে বারবার এ ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির সহায়তায় অন্তত ২০০ জন অপহৃত জেলেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তবে এখনো ১৭৫ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।


