হাসনাতের ওপর ‘হামলায়’ জাতীয় যুবশক্তির নিন্দা

হাসনাতের ওপর ‘হামলায়’ জাতীয় যুবশক্তির নিন্দা
Advertisement
Advertisement

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ-এর ওপর চট্টগ্রামে হওয়া ‘মব সন্ত্রাস ও হেনস্তার’ ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় যুবশক্তি। এ হামলাকে সম্পূর্ণ ন্যক্কারজনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

বিবৃতিতে জাতীয় যুবশক্তি লিখেছে, ‘তিনি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, যিনি অতীতে ২০১০ ও ২০১৫ সালে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। তখন কোনো ধরনের প্রতিবাদ দেখা না গেলেও, আজ তাকে ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর মব সন্ত্রাস চালানো স্পষ্ট দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।’

জাতীয় যুবশক্তি মনে করে, ‘রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা কখনোই সহিংসতা, হুমকি বা মব সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।’ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকায় সাবেক সিটি মেয়র মঞ্জুর আলমের বাসভবন ‘এইচ এম ভিলায়’ গিয়ে উত্তেজনার মুখে পড়েন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ঘিরে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুইটি গাড়ি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বাসার সামনে জড়ো হয়ে মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

বিক্ষোভকারীরা এ সময় তার উদ্দেশে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে কেন তিনি সেখানে গেছেন এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। পাশাপাশি তারা স্লোগান দেন-  ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’।

তবে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহেদ আকবর বলেন, তারা বিষয়টি জানতে পেরে বাসার সামনে যান এবং হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে আগমনের কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, হাসনাত সেখানে চা খেতে গিয়েছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাকে সম্মানের সঙ্গে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় কিছু ছাত্রদল কর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছবি তুলতে না পেরে সামান্য হট্টগোলের সৃষ্টি করে।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি। কয়েকজন ব্যক্তি স্লোগান দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়নি।

পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তার চলে যাওয়ার পর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad