বিশ্বকাপে ‘আই’গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। অন্যদিকে ফ্রান্সের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হারা সেনেগালের জন্য এই পরাজয়ে পরবর্তী রাউন্ডের পথ কঠিন হয়ে গেল।
এ যেন এক আশ্চর্য গোলের রাত। রাতের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে জোড়া গোল করেন লিওনেল মেসি, এরপর ফ্রান্সের হয়ে দুইবার বল জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর এবার নরওয়ের হয়ে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই তালিকায় নাম লেখালেন আর্লিং হালান্ড।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি ও এমবাপ্পে যেভাবে আলো ছড়াচ্ছেন, হালান্ডও যেন ঠিক তাদের পথেই হাঁটছেন। নরওয়ের জার্সিতে ৫২ ম্যাচে এটি তার ৫৮তম গোল।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমে ওঠে। ৩৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ডের নেওয়া একটি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। ফলে সে যাত্রায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি নরওয়ের। তবে ডেডলক ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি।
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে নিজেদের বক্সের ঠিক বাইরে অবিশ্বাস্য এক ভুল করেন সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালি। তার একটি দুর্বল পাস সরাসরি গিয়ে পড়ে নরওয়ের বদলি খেলোয়াড় মার্কুস হোমগ্রেন পেদারসেনের পায়ে। সুযোগ পেয়ে ডান প্রান্তের এই ডিফেন্ডার বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে নেন।
সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্দি বল ছুঁয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু গতি বেশি থাকায় জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।
বিরতির পর বিধ্বংসী এক পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নরওয়ে। সেনেগাল তখন নরওয়ের অর্ধে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদের একটি ঢিলেঢালা পাস কেড়ে নিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে যান মার্টিন ওডেগার্ড। মুহূর্তের মধ্যে নরওয়ে চার-দুইয়ের সুবিধাজনক অবস্থায় চলে যায়। ওডেগার্ড বাম দিকে বল বাড়িয়ে দেন হালান্ডকে। কালিদু কুলিবালি স্লাইড করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বল তার পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
এরপর কোনো ভুল না করে প্রথম ছোঁয়াতেই জোরালো শটে বল জালে পাঠান হালান্ড। দারুণ গতিময় ও নিখুঁত এই পাল্টা আক্রমণের সামনে গোলরক্ষক মেন্দির কিছুই করার ছিল না।
দুই গোল হজম করার পর অবশ্য দ্রুত এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরে সেনেগাল। ৫৩ মিনিটে আফ্রিকান দলটির হয়ে প্রথম গোলটি করেন ইসমাইলা সার। তবে এর ঠিক ৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ৫৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে নরওয়েকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেনেগালের হয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ইসমাইলা সার। তার এই গোলের পর ব্যবধান ৩-২ হলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।


