একসময় বাংলাদেশের ‘প্রকৃতির কন্যা’ হিসেবে পরিচিত জাফলং ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার অপরূপ সৌন্দর্য। স্বচ্ছ নীলাভ পানি, বিশালাকার পাথর আর খাসিয়া পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য—যা একসময় সিলেটের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল, এখন তা ক্রমেই অতীতের স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের প্রিয় গন্তব্য। নীলাভ স্রোতধারা ও পাথরে ভরা নদীতল দেখতে সারা বছরই এখানে ভিড় করতেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু এখনকার জাফলংয়ের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।

নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে, বিশেষ করে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র ‘জিরো পয়েন্টে’, এখন বালুচর ও পাথরের স্তূপ জমে রয়েছে। নতুন নতুন চর জেগে উঠেছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথও বদলে গেছে। একসময় নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা অনেক বড় বড় পাথরও আর দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলনের কারণেই জাফলংয়ের এই অবস্থা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলেও, স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে এখনো অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

শুধু নদী নয়, আশপাশের পরিবেশও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে একসময়ের নির্মল পরিবেশ।

পরিবেশবিদদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন মানবিক কর্মকাণ্ড শুধু জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, এর জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস করছে।
অনেক পর্যটক জানান, কয়েক বছর আগের জাফলংয়ের সঙ্গে বর্তমান জাফলংয়ের কোনো মিল নেই। যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে তারা একসময় এখানে আসতেন, তার অনেকটাই এখন হারিয়ে গেছে।
পরিবেশবিদরা অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সতর্কবার্তা, এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে বাংলাদেশের ‘প্রকৃতির কন্যা’ জাফলং একসময় শুধু ছবি আর স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।


