দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে এবং বাকি পাঁচজন মারা গেছে হামের উপসর্গে।
মৃত্যুর দিক দিয়ে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচজন সন্দেহজনক হামে মারা গেছে, তার মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের। আর বিগত দুই মাসে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৫৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ২৪৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৯৯ জন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ১৬ মে সকাল ৮টা থেকে ১৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
গত দুই মাসে–১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে ১৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত–সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে মারা গেছে ৭৫ জন এবং বাকি ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক হাম রোগে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করলেও প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা।
বিভাগভিত্তিক মোট আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ২৬ হাজার ১২৪ জন। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৯ হাজার ৪১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ হাজার ৬২২ জন, খুলনা বিভাগে ৪ হাজার ১৩৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৪ হাজার ৪৬২ জন। রংপুর বিভাগে আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম, সেখানে মোট সন্দেহজনক আক্রান্ত ১ হাজার ১৪০ জন এবং এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৮৪৬ জনে। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৬৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে ৪২ হাজার ৯২ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত ছাড়পত্র নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন।
হামের এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব রুখতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিশেষ ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই অ্যান্ড সার্ভিল্যান্স শাখার তথ্যানুযায়ী, এই ক্যাম্পেইনের সার্বিক অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।
সারা দেশে মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ১৭ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০১ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক টিকাদানের চিত্র
টিকাদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে রাজশাহী বিভাগে ১০৩ শতাংশ। এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ১০২ শতাংশ ও ১০১ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। তবে সিলেট বিভাগে কাভারেজ কিছুটা কম, ৯৮ শতাংশ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ২৬ হাজার ৯৫০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশন এলাকার চিত্র
দেশের প্রধান সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও সফলতার সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১০৮ শতাংশ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৭ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত হয়েছে। তবে রংপুরে ৯৭ শতাংশ, সিলেটে ৯৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।


