শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের পক্ষে শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংস্থার সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান।
তিনি একই মামলার বাদী। গত ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, এম এ এন সিদ্দিক, মো. ফারুক জলিল, মোহাম্মদ শফিকুল করিম, মোহা. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম, মনির-উজ-জামান চৌধুরী, সেলিনা চৌধুরী এবং ইকরাম ইকবাল।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহবান করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড শতকরা ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) ৫ বছর মেয়াদে কার্যাদেশ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল নেয়। এতে সরকারের ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে ও নিজেরা লাভবান হয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা দেশত্যাগ করতে পারেন বলে তদন্তে এসেছে। এতে মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও দেখছে দুদক। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের বিদেশ যাওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী হিসেবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে নিয়োগ দিতে আগের দরপত্র ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল’ করে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।
অন্য প্রতিষ্ঠান বাদ রেখে কেবল সিএনএস লিমিটেডের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য টোল আদায়ের চুক্তি করা হয়। এতে সার্ভিস চার্জের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক না করে হার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই হার ছিল আদায় করা টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ (ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত)। চুক্তির আওতায় সিএনএস লিমিটেড মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল নেয়।
অন্যদিকে, ২০১০-২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল আদায়ের জন্য এমবিইএল-এটিটি মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় কাজ করে। পরবর্তীতে ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় (ভ্যাট ও আয়করসহ) কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সিএনএস লিমিটেড কথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরও ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দুদক দাবি করে, সিএনএস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়ার ফলে সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা।
দুদক জানায়, সিএনএস লিমিটেডের পরিচালক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে এ অনিয়ম করেছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা। এরপর বিভিন্ন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার খবর এসেছে। এরইমধ্যে তাদের ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে সরকার আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথাও ভাবছে।


