ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করার পর পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জী সিং নামে একজন আইনজীবী এই মামলা করেন। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।
মামলার অভিযোগে ওই আইনজীবী বলেন, ‘মমতা একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দাবি করেছেন যে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এই ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা।’
মামলায় আরও বলা হয়, মমতা ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জনগণের মাঝে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন।
গত মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তৃতাকালে মমতা দাবি করেন, বাংলাদেশে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বড় একটি হত্যাকাণ্ডের (হাদি হত্যাকাণ্ড) আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি ‘গোপন’ রাখতে বলেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও অনুযায়ী মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। ওই খুনিরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলায় এসেছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, এটা যেন বাইরে না যায়। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সব জানি। আমি নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে।’
মমতার এই বক্তব্যের একদিন পরই তার বিরুদ্ধে মামলা হলো। যদিও তিনি বক্তৃতায় সরাসরি হাদির নাম নেননি, তবে ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এটি হাদি হত্যাকাণ্ডকেই ইঙ্গিত করে। মামলাকারী রিংকি চ্যাটার্জী এই বক্তব্যকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি উসকানিমূলক ও মানহানিকর বলে অভিহিত করেছেন।


