ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তুর্ক বলেন, ‘প্রতিশোধ ও পাল্টা আঘাত বিভাজন আরও বাড়াবে আর এতে সবার অধিকারই ক্ষতির মুখে পড়বে।’
হাদি হত্যার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তুর্ক।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভে কিছু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন বলে খবর পাওয়া যায়।
ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত থাকায় তুর্ক বলেন, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে সবাই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস করতে পারে এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটকালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’
মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং আরও সহিংসতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করতে তার দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। তার মৃত্যুর পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমানটি দেশে এসে পৌঁছায়।


