হজে মিনা-আরাফার আলাদা তাবু: হাজিদের ভোগান্তির আশঙ্কা

হজে মিনা-আরাফার আলাদা তাবু: হাজিদের ভোগান্তির আশঙ্কা
বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। ছবি: সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ থেকে এবার হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সৌদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির সময় ৫৬ হাজার যাত্রীর প্রস্তাব দিলে পরে আলোচনা সাপেক্ষে তা বাড়ানো হয়। এর পর নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার কাজ শেষে শুরু হবে হজযাত্রা। তবে এর মধ্যে মিনা ও আরাফার তাবুতে এক এজেন্সির হাজিদের সবার এক সঙ্গে থাকার সুযোগ নেই, থাকতে হবে আলাদাভাবে। এতে ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রীরা। আবার প্রবাসী হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার টাইমসকে বলেন, আরাফার ময়দান-মিনায় তাবুতে হজযাত্রী থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক এজেন্সির সব যাত্রী এক সঙ্গে থাকতে পারবে না। তারা বিভক্তভাবে থাকলে সমন্বয়ে জটিলতা হবে। এতে হাজিরা ভোগান্তিতে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাস থেকে যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের টিকা দিতে এবং যাত্রার জন্য আলাদাভাবে দেশে আসতে হবে। এতে তাদের বিদেশে চাকরিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে। এজন্য ওইসব যাত্রীরা যে দেশে কর্মরত সেসব দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গেলে সুবিধা হবে। এসব কাজে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ শাখা) মঞ্জুরুল হক টাইমসকে বলেছেন, সৌদি সরকার এবার এজেন্সিকে তাবু নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। এজেন্সিগুলো সেখানকার সার্ভিস কোম্পানির মাধ্যমে তাবু বুকিং করছে। এতে হাজিরা একসঙ্গে থাকার সুযোগ না পেলে সমস্যা হবে। বয়স্ক ও পড়ালেখা না জানা হাজি ও নারী-শিশুরা সমস্যায় পড়তে পারেন।

আগে সরকারিভাবে তাবুর ব্যবস্থা করা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০ মার্চ হজের ভিসার আবেদনের শেষ তারিখ। ৭টি কঠিন রোগে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না। টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফিটনেস রিপোর্টসহ আবেদন করতে হবে। ১৮ এপ্রিল হজের প্রথম ফ্লাইট। এ অবস্থায় আগামি রোববার ধর্ম, স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এনিয়ে সভা করবেন। ৪৬ জন হাজির জন্য একজন করে যে গাইড থাকবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সৌদি সরকারের নিয়মে, এদেশে এসে করতে হবে বলেও জানান তিনি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়া কমানো হয়েছে। গত বছর বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬
সরকারিভাবে তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়: প্যাকেজ ১ (বিশেষ): ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। প্যাকেজ ২ (সুলভ): ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। প্যাকেজ ৩ (সাশ্রয়ী): ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

বেসরকারি হজ প্যাকেজ
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ০৯ হাজার ১৮৫ টাকা। অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত দুটি প্যাকেজ ঘোষণার সুযোগ পাবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সরকারি হজযাত্রীরা ই-হজ সিস্টেম, লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা অফিস এবং আশকোনা হজ অফিস থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এদিকে, হজ ভিসা প্রক্রিয়ায় শেষ মুহূর্তের জটিলতা ও অনিশ্চয়তা এড়াতে আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের নির্ধারিত টাইমলাইন ও ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে আগামী ৫ মার্চের মধ্যে সব হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ, গ্রুপিং ও ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বুধবার ৩০টি এজেন্সির কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এসব চিঠিতে এ পর্যন্ত এজেন্সিভিত্তিক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ত্রিশটি এজেন্সির মোট ৭ হাজার ৩৫৫ জন হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এখনো বাকি রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাকি রয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেসের ১ হাজার ৩০৬ জন এবং সর্বনিম্ন রয়েছে এহসান এয়ার ট্রাভেলসের ১০ জন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের টাইমলাইন মোতাবেক আগামী ২০ মার্চ হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ শেষ হবে। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ ও টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য হজযাত্রীর গ্রুপ তৈরি, গ্রুপ প্রসেসকরণ ইত্যাদি যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে ভিসা প্রাপ্তিতে ৫ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া কারিগরি জটিলতার উদ্ভব হলে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।

আগামী ২০ মার্চের কাছাকাছি সময়ে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় প্রান্তেই সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ থাকবে। ফলে ২০ মার্চের অনেক আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা প্রদান ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে জানানো হয় চিঠিতে। আগামী ৫ মার্চের মধ্যে সব হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ ও গ্রুপ তৈরি সম্পন্ন করে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সি মালিক ও ব্যবস্থাপকদের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad