হংকংয়ের তাই পো এলাকায় ওয়াং ফুক কোর্টে ভয়াবহ আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ জনে। নিহতদের মধ্যে একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীও রয়েছেন। এতে ৭৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, আগুন লাগার পর উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা এখন পর্যন্ত একজন নারী, একজন পুরুষ ও কয়েকটি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করেছেন।
আটটি ব্লক নিয়ে গঠিত এই আবাসিক ভবনগুলোতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সংস্কারকাজ চলছিল, যেগুলো বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ও সবুজ জাল দিয়ে ঢাকা ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে লিফট-উইন্ডোর সামনে অত্যন্ত দাহ্য স্টাইরোফোম লাগানো ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ।
এ ছাড়া, ভবনের বাইরের জাল ও শিটিং আগুনের নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করেনি বলে কর্মকর্তারা জানান।
সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক ও এক কনসালট্যান্টকে ম্যানস্লটার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানহীন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
পাশাপাশি ৩৩০ মিলিয়ন হংকং ডলারের সংস্কারকাজে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রাফটব্লাস্টাররা দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়েও অভিযান চালাচ্ছে।
হংকং প্রশাসন জানিয়েছে, আগুনের কারণ উদ্ঘাটনে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু হয়েছে। শহরের প্রধান নির্বাহী জন লি ক্যা-চিউ সব সরকারি আবাসিক ভবনে চলমান বড় সংস্কারকাজগুলোর তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে, বুধবার বিকাল ২টা ৫১ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে আটটির মধ্যে সাতটি ব্লকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক মিনিটের মধ্যে বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ও সবুজ জাল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে এবং জ্বলন্ত জালের বড় অংশ নিচে পড়ে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো তিনটি ৩১ তলা ভবনের ওপরের অংশে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যাচ্ছে।
তাই পো হলো হংকংয়ের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি আবাসিক এলাকা, যা মূল চীনের শেনজেন শহরের কাছাকাছি। ২০২১ সালের সরকারি শুমারি অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৯৮৪টি অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাসিন্দা বসবাস করেন।
১৯৮৩ সালে নির্মিত এসব ভবনে সংস্কারকাজ চলাকালে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।


