রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় মো. জিহাদ নামে এক তরুণকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর বুধবার সকালে উত্তরা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত জিহাদের ফুফাতো ভাই মো. শহীদ টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, জিহাদ রায়েরবাজার এলাকায় থাকতেন। তিনি আগে একটি মোবাইলের দোকানে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে নিজে ব্যবসা করার চেষ্টা করছিলেন। চলতি মাসের শেষ দিকে একটি দোকান নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি।
শহীদ বলেন, জিহাদ এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার পর তাদের দুজনকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে নির্যাতনের পর জিহাদকে রিকশায় করে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায় তারা। রিকশাচালককে বাড়ির সামনে তাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
জিহাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন শহীদ। ওই বন্ধুকে বর্তমানে হাজারীবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত জিহাদকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আইসিইউ প্রয়োজন হওয়ায় তাকে উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার বিকাল পর্যন্ত মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান স্বজনরা।
পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন
ঘটনার বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, সকালে মো. জিহাদ নামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। কিন্তু বিষয়টি ‘আংশিক সত্য’। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগটি পুরোপুরি সঠিক নয়; বরং জিহাদের পূর্বপরিচিতরাই তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
জিহাদের সঙ্গে থাকা আরেক তরুণ নিরবকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিরবকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নিরব পুলিশকে জানায়, ঘটনার সূত্রপাত একটি পার্টিতে যাওয়ার কথা থেকে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিহাদকে মেসেঞ্জারে ফোন করে পার্টিতে আসতে বলে নিরব। পার্টিতে জিহাদ, নিরব ছাড়াও তাদের পূর্বপরিচিত জাহিদ, সানি ও নাহিদ ছিলেন।
ওসি জানান, পরে তারা একটি পরিত্যক্ত স্থাপনার ভেতরে যায় এবং সেখানে ইয়াবা সেবন করে। একপর্যায়ে জিহাদকে টাকা চুরি ও ইয়াবা সেবনের মতো বিষয় স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিহাদ ও নিরবকে জাহিদ, সানি ও নাহিদ নির্যাতন করে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হাজারীবাগ থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। আমরা কাজ করছি।’


