হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো এলাকায় অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে লাগা আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮-এ দাঁড়িয়েছে। এখনো অন্তত ২০০ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে আগুন ‘প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ আসে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ বসবাস করতেন। চলমান সংস্কার কাজের কারণে ভবনগুলো বাঁশের মাচা ও সবুজ জাল দিয়ে ঘেরা ছিল–যেগুলো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

হংকংয়ের নিরাপত্তা প্রধান ক্রিস ট্যাং জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৬ জন আহত।
এ ঘটনায় হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা আইসিএসি ওয়াং ফুক কোর্টের সংস্কার প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উইল পাওয়ার আর্কিটেক্টস কোম্পানির দুই পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে। এর ফলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লিমিটেডের দুই পরিচালকসহ তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস তদন্তে জেনেছে, ভবনের বাইরের জাল ও শিটিং ফায়ার সেফটি মানদণ্ড ভঙ্গ করে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং লিফটের জানালা অত্যন্ত দাহ্য স্টাইরোফোম দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই আগুন ১৯৪৮ সালের এক গুদামে লাগা আগুনের পর হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা। সেই ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছিলেন। হংকংয়ের আগুনকে অনেকেই ২০১৭ সালের লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার ট্র্যাজেডির সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি ঘোষণা করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় ৩০ কোটি হংকং ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার) তহবিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি চীনের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানিও সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।


