স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ১৩ হাজার ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তা পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
প্রকল্পটির নাম ‘হেলথ অ্যান্ড নিউট্রেশন সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট’।
সোমবারের একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন না করে ব্যয় কাঠামো পর্যালোচনা শেষে পুনরায় প্রস্তাব তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে বলে মনে করছে একনেক।
ফলে প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রেখে ব্যয় বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত এই জাতীয় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৮২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের অংশ ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ১৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে দেশের সব বিভাগে বাস্তবায়নের কথা ছিল।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের সব এলাকায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার মান এবং প্রাপ্যতা বাড়ানো।
মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, পুষ্টি এবং অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ কর্মসূচিকে আরও সক্ষম ও জলবায়ুসমন্বিত করার পরিকল্পনা ছিল এতে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, অসংক্রামক রোগের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর রেফারেল কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোও ছিল প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, টিকাদান কর্মসূচির ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ, মাঠপর্যায়ের পুষ্টি সেবা সম্প্রসারণ, অসংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ ও নিবন্ধন বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়, পঞ্চম স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর প্রোগ্রাম অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেক্টরভিত্তিক কর্মসূচি থেকে বের হলে যে ঝুঁকিগুলো তৈরি হতে পারে, সেগুলো সামাল দিতে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থনে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নতুন প্রকল্পগুলো প্রয়োজন, সে যুক্তিতেই এর ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ গত ২৯ মে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছিল।
তবে একনেক মনে করেছে, প্রস্তাবিত ব্যয়ের বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিকতা রয়েছে এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়।
তাই ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া প্রকল্পটি এগোনো যাবে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগ নতুন করে ব্যয় যাচাই করে সংশোধিত প্রস্তাব দাখিল করলে তা পুনরায় বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।


