বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অদৃশ্য সংকট নিয়ে সরব হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন বিকল পড়ে থাকার পেছনে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’-এর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে অভিযোগ তুলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবারের একনেক বৈঠকে মূলত চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে কথা বলার জন্য মেয়রকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেই প্রকল্পটি আলোচনায় তোলা হয়নি। বৈঠক শেষে মেয়র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, নির্ধারিত এজেন্ডা উপস্থাপিত না হলেও তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মতামত দেওয়ার সুযোগ পান।
মেয়র বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক দামি ও জরুরি যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর বিকল থাকে। কেন এগুলো মেরামত করা হয় না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমার মনে হয়, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশ আছে কি না, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত।’
তার এই বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি অভিযোগ নতুন করে সামনে এলো—সরকারি সেবার দুর্বলতা রোগীদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না।
এদিকে বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৭০টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র জানান, প্রকল্পটি পর্যালোচনার পর আগামী একনেক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য আবার উপস্থাপন করা হতে পারে।
অন্যদিকে, চসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পটি এদিন উপস্থাপিত না হলেও এটি নিয়ে নতুন করে প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। মূলত ২৩১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩০৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পে করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা থাকা ৬০ কোটি টাকাও সরকারি অর্থায়নে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই প্রকল্পের বিষয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি কোনো লাভজনক প্রকল্প নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। তাই সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করাই যৌক্তিক।’
সব মিলিয়ে, একনেক বৈঠকে নির্ধারিত প্রকল্প উপস্থাপিত না হলেও চসিক মেয়রের উপস্থাপনে স্বাস্থ্য খাতের গোপন সংকট ও সম্ভাব্য অনিয়মের ইঙ্গিত নতুন করে আলোচনায় এসেছে—যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের তদন্তের দাবি জোরালো করতে পারে।


