দেশ স্বাধীনের পর গত ৫৪ বছরে তিনটি দল দেশকে লুটেপটে খেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ওই গোষ্ঠীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এবার শান্ত হও এবং দাঁড়িপাল্লাকে দেশ চালাবার সুযোগ দাও।’
শনিবার দুপুরে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়ার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে এবং দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এই জামায়াত নেতা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অত্যন্ত দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক নেতা জামায়াতের নারী সমর্থকরা ভোট চাইতে গেলে তাদের অসম্মানিত করার হুমকি দিয়েছেন। ভোটের আগেই এই অবস্থা হলে, ভোটের পর দেশের নারী সমাজ আরও অনিরাপদ হয়ে পড়বে। আমাদেরকে মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষার্থে এই খুনিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করব দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে।’
তার মতে, গ্রামে গ্রামে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে বলেই প্রতিপক্ষ বন্ধুদের মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। সেই পাগলামি থেকেই তারা এখন ‘না’ ভোটের কথা বলে বেড়ায়।
জনতার উদ্দেশে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ঘুরে ফিরে তিনটি দল দেশ চালিয়ে পরীক্ষিত। নৈতিকতা, সততা, আদর্শ, আখলাক, দেশপ্রেম, মমত্ববোধ, মানবতার মতো সব পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, কোনো দলের নেতারা কি বলতে পারবেন, তাদের শাসন আমলে দুর্নীতি করেননি। তারা এদেশে ভিন্ন মতের লোকদের দমন নিপীড়ন করেছেন, বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন। পাশাপাশি এদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। কিন্তু তারা মানুষকে যে ওয়াদা দিয়েছে তা রাখতে পারেনি। তারা দেশটাকে তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পয়িন বানিয়েছে। যার ফলে বিশ্বের দরবারে আমরা লজ্জিত ছিলাম।’
দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বলছে আমরা ৫৪ বছরের শাসন দেখেছি। এখন পরিবর্তন চাই। যারা বিগত বছরগুলোতে যারা দূর্নীতি ও দু:শাসন করেছে তাদেরক আবার ক্ষমতায় বসাব না। আমরা এবার ন্যয় ও ইনসাফের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।’
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আপনাদের কাজ হচ্ছে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়া। এক কেন্দ্রের জন্য কমপক্ষে ২০০ লোক উপস্থিত থাকবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, পুলিশকে বডি ক্যামেরা এবং সেনাবাহিনী দেওয়ার জন্য। সবকিছুই থাকবে। কেন্দ্র দখল, ব্যালেট বক্স ছিনতাই এগুলো করতে দেওয়া হবে না। কেউ সন্ত্রাসের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বক্তব্যে বলেন, যারা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তারাই এখন দুর্নীতি প্রতিরোধ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয় বরং যাদের হাতে ইসলাম ও ইনসাফ আছে তাদের হাতেই এদেশ নিরাপদ হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান খান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহানা মিয়া, চাঁদপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচনী দলের সদস্য লিয়াকত আলী ভুঁইয়া।
নির্বাচনী জনসভায় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।


