ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই লড়াই চলছে।
সংঘর্ষের মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এসটিসি।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার হাদরামাউতের আল খাশা সামরিক ঘাঁটিতে সৌদি জোটের বিমান হামলা চালানো হয়।
হামলার সময় ঘাঁটিটিতে এসটিসির যোদ্ধারা অবস্থান করছিলেন।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আল নাকিব এই সংঘর্ষকে তাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আল কায়েদার মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে এসটিসির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, হাদরামাউত প্রদেশের গভর্নর সালেম আল খানবাশি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী এসটিসির কাছ থেকে আল খাশা সামরিক ঘাঁটিটি পুনরুদ্ধার করেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইয়েমেন টিভির খবরে বলা হয়েছে, আল খাশা ঘাঁটিটি হাদরামাউত প্রদেশের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
ইয়েমেন টিভি আরও জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী হাদরামাউত ও আল মাহরা প্রদেশ পুনর্দখলের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।
ইয়েমেনের সাংবাদিক ইউসুফ মাওরির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, সংঘর্ষের জেরে এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আকাশ অবরোধ আরোপের অভিযোগ এনেছে এসটিসি।
এ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক পিছু হটার ফলে এসটিসির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সরকারি বাহিনীর পক্ষে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আরেক বিশ্লেষক আলী হাশেম মনে করেন, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে, যার প্রতিফলন ইয়েমেনের এই সংঘর্ষে দেখা যাচ্ছে।
ইয়েমেন সরকার সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে আত্মঘাতী বলে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মুখপাত্র আনোয়ার আল তামিমি বলেছেন, এই বিমান হামলা প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল ও আরব জোট কার্যত তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে।
২০১৭ সালে গঠিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠী সম্প্রতি হাদরামাউত ও আল মাহরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।


