ইরান যদি ‘খারাপ আচরণ’ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা দেশটির ওপর আবার হামলা শুরু করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানান, ইরানের প্রস্তাবিত নতুন একটি চুক্তি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন তবে এখনো প্রস্তাবটির ‘আক্ষরিক শব্দচয়ন’ দেখার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাকে চুক্তির ধারণা জানিয়েছে। এখন সুনির্দিষ্ট ভাষা দেবে।’
অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘ইরান তার কৃতকর্মের জন্য যথেষ্ট মূল্য দেয় নি। তাই তাদের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হবে না।’
তেহরানে পুনরায় হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেটি হতে পারে।’
অন্যদিকে ইরান বলছে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং পরে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এর আগে ইরানের যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই প্রস্তাবে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে ফের জাহাজ চলাচল শুরুর বিনিময়ে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত ছিল। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য রাখা হবে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাবে অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয় যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত।


