নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর শিক্ষার্থী আসিফ হত্যার এজাহারে লেখা আসামিদের নাম শুনে ক্ষুদ্ধ মামলার বাদী! রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থে আসামি তালিকায় অনেকের নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সোনাইমুড়ীতে নিহত শিক্ষার্থী মো. আসিফের (২৬) পিতা মোরশেদ আলম এ অবস্থায় সন্দিহান সন্তান হত্যার বিচার নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেননি এমন ব্যক্তিদের নাম এজাহারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মোরশেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গতবছর ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগের সংবাদ জেনে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়কে আনন্দ মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। এ সময় মিছিলে হামলা হলে তানভির হোসেন মাহমুদ (২৫), মো. ইয়াছিন (১৫), হাসান (১৪) ও মো. ইয়াছিন (৩০) নামে তিনজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এসময় শিক্ষার্থী আসিফসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট আসিফ মারা যান।
আসিফ নিহতের ঘটনায় থানা মামলা না নিলে পিতা মোরশেদ আলম বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন।
নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, নোয়াখালী ৬ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. সাজ্জাদ হোসেন ১৯ আগস্ট মো. মোরশেদ আলমের অভিযোগ আমলে নিয়ে সোনাইমুড়ী থানাকে মামলা (এফআইআর) রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আলোচিত এ মামলায় নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহীম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ফ ম বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম বাকের, চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সালসহ ৩৯ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মোরশেদ আলম দাবি করেছেন, ছেলের লাশ দাফনের সময় ফারহান নামের এক ব্যক্তি স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছেমতো এজাহারে নাম বসিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কার গুলিতে মারা গেছে আমি জানি না, আমি তো দেখিনি। লোকমুখে শুনেছি গুলির ঘটনা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলের মৃত্যুর হলে বেগমগঞ্জে দাফন করা হয়। এসময় কবরস্থানে গিয়ে ফারহান নামের ব্যক্তি মামলার জন্য কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন।’
‘এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে আমি তাদের কাউকে চিনি না। মামলার নামে আমাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন মামলা থেকে আসামির নাম বাদ দিতে টাকা চাওয়া হচ্ছে, টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ৭/৮ জন নেতাকর্মীকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা খুবই দু:খজনক। মামলায় এভাবে যারা নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই।’
নানা ঘটনার সূত্রে ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন মোরশেদ আলম।
এদিকে বাদীর দাবি প্রসঙ্গে সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন আছে। বাদী আদালতে গিয়ে মামলা করেছেন, অথচ এখন আসামিদের চিনি না, জানি না -এমন কথা বলছেন।’
‘মামলার বাদী অনেক আসামির কাছ থেকে টাকা নিয়ে আদালতে এভিডেভিট করছেন বলেও অভিযোগ আছে। তদন্ত শেষে সব ক্লিয়ার হবে।’
এর আগে আসিফ হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা। তারা দাবি করেছিলেন, থানার অস্ত্র লুটের পর তা পরীক্ষা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আসিফ।


