ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (২১) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে পৌর এলাকার কাঞ্চনপুর গ্রামের সাদাতিয়া সড়কের বেবি খাতুনের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত খুশি খাতুন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আদালতপুর গ্রামের শহিদুল মোড়লের মেয়ে। তিনি সম্প্রতি পাগলাকানাই মোড়ে অবস্থিত আন্তরিক হোটেল নামের একটি খাবার হোটেলে কাজ নিয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, খুশি খাতুন এক সপ্তাহ আগে বেবি খাতুনের বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে হোটেলের কাজ শেষে তার স্বামী পরিচয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই বাড়িতে ফেরেন।
পরে সকালে ঘর থেকে একের পর এক মোবাইল বাজার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশিরা খোঁজ নিতে গেলে ভেতরে মেঝেতে খুশির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় ঘরের এক পাশের দরজা বন্ধ ও পিছনের দরজা খোলা ছিল। তারপর তারা পুলিশে খবর দেন।
এ সময় খুশির স্বামী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তিনি পলাতক আছেন।
বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, গত এক সপ্তাহ আগে তার বাসা ভাড়া নেন খুশি খাতুন। সোহাগ হোসেন নামে এক রিকশাচালক তার স্বামী বলে দাবি করেন খুশি। এরপর তারা সেই বাসায় ওঠেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হোটেল থেকে কাজ শেষে স্বামীর সঙ্গে বাসায় ফেরেন তিনি।
একই বাসার ভাড়াটিয়া বদর উদ্দিন বলেন, ‘ওই নারীর ঘর থেকে মোবাইল ফোনে একাধিক কল আসার শব্দ পাওয়া যায়। ঘরটি থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আমরা ডাকাডাকি শুরু করি। পরে ঘরে ঢুকে দেখতে পাই তার মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে।’
আন্তরিক হোটেল মালিক রফিক আনোয়ার সামু জানান, ‘খুশি খাতুন নামের মেয়েটি আমার হোটেলে ১৮দিন আগে তার এক চাচীর মাধ্যমে হোটেলে কাজে যুক্ত হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেলে কাজ শেষে তিনি বাসায় চলে যান। পরে সকালে খবর পাই তিনি মারা গেছেন।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ধারে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।’


