ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়েছে। সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা শাখা) কাজী মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মধ্যে ফাইলটি খোয়া যায়। নতুন করে ফাইল তৈরি করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমণি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গোলাম সাকলায়েন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সাকলায়েনের বাসায় পরীমণির যাতায়াত ছিল। এ ঘটনায় সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয় এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব রোকেয়া পারভীন জুঁই স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, সাকলায়েন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগনামা জারি করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে।


