চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, সুস্থ হয়ে তিনি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আর না ফেরার শর্তে তাকে বের করে নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার এক প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য বলেন, তার বক্তব্য না নিয়েই এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম উল্লেখ করেন , গত মঙ্গলবার প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরবেন না; এমন শর্তে শিক্ষার্থীরা তাকে বের হতে দিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কোনো কোনো সংবাদে তার পদত্যাগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি তিনি দেননি বলে স্পষ্ট করেছেন উপাচার্য।
নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে সেখানে অবস্থানরত আরও কয়েকজনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রায় ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে সোমবার রাতে দুজন অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন, যাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পরে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
উপাচার্য বলেন, তাকে যখন ক্যাম্পাস থেকে নেওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। অসুস্থতার কারণেই তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ এজেন্ডা কিংবা দলীয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় শিক্ষার্থীদের অমূল্য শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। নিজেও এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছিলেন উল্লেখ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই ছোট ভাই-বোন হিসেবে বিবেচনা করেন বলেও জানান।
গণমাধ্যমগুলোর প্রতি তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন শেখ শরীফুল আলম। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা সংশোধন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।


