দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ ভয়াবহভাবে কলুষিত হয়ে পড়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে মৌলিক সংস্কার জরুরি। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে সুজন আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার জানান, বর্তমানে নির্বাচনী অঙ্গন ও রাজনৈতিক দলগুলোতে কালো টাকার প্রভাব ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেও বিপুল অর্থ দিতে না পারায় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা রাজনৈতিক দলের ভেতরের দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট করে।
নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে শাসক দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এতে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এ ছাড়া, বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতায়ন করতে সংবিধান রচনা করা হয়েছিল–এমন অভিযোগ করে সুজনের সম্পাদক জানান, আগের সংবিধানের ফলেই প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী হন। সেই পুরোনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে হতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেন।
তিনি জানান, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম করা হয়। এর ফলেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ১৯৯১ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উল্লেখ করেন তিনি।
সংলাপে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃরা অংশ নেনে। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।


