তিন সহযোগীসহ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সুব্রত বাইন ওরফে মো. ফাতেহ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে আদালত। এরই মধ্য দিয়ে আলোচিত মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।
বুধবার ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ এর বিচারক ফাহমিদা জাহাঙ্গীর মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ ছাড়া আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন তিনি। সুব্রত বাইন ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সহযোগী আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, এম এ এস শরীফ ও আরাফাত ইবনে নাসির।
এদিনই কারাগার থেকে সুব্রত বাইন ও আরাফাতকে আদালতে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে আসামি মোল্লা মাসুদ ও শরীফকে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি (ভিডিও কলে) যুক্ত করা হয়।
এদিকে, এ দিন ঢাকার হাতিরঝিল থানার অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন সুব্রত বাইন।
এরপর এ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়। শুনানিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সুব্রত বাইন। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযুক্তদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৭ মে ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার হন ‘শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদ। পড়ে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুব্রত বাইনের অন্য দুই সহযোগী ‘শ্যুটার’ আরাফাত ও শরীফকে।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩টি গুলি এবং একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৮ মে অস্ত্র আইনে মামলা করেন হাতিরঝিল থানার এস আই আসাদুজ্জামান। এরপর গত ১৩ জুলাই চারজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামি সুব্রত বাইন ও তার সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে।
নথিতে আরও বলা হয়, ওই অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী বাহিনী ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’ পরিচালনা করত। সুব্রত বাইন তৎকালীন সময়ে খুন-ডাকাতি সংঘটনের মধ্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলেন। পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি দেশে প্রবেশ করে পুনরায় খুন, চাঁদাবাজি শুরু করেন।
হাতিরঝিলে তার সহযোগী এস এম শরীফের বাড়িতে নিয়মিত মিটিং করেন এবং সেখানে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলিসহ অপরাধ সংগঠনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি মজুদ রাখেন বলে তথ্য পায় পুলিশ। পরে হাতিরঝিল থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা থেকে একই দিন বিকেল ৩টার দিকে এম এ এস শরীফ ও মো. আরাফাত ইবনে নাসিরকে আটক করা হয়।


