সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা আদালত অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন এ সংক্রান্ত মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে সাত আইনজীবীর করা একটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা নিয়ে সাত আইনজীবী গত ১৯ এপ্রিল হাইকোর্টে আরেকটি রিট করেন। এই রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন শিশির মনির। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নিয়েছে সরকার। ১৯ মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশির মনির সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা সিরিয়াস আদালত অবমাননা। আমরা আগামীকাল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করব।’
মন্ত্রণালয়ে ফেরত নিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের নিম্ন বর্ণিত সদস্যদের পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্ত পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো। প্রজ্ঞাপনে ছক করে কর্মকর্তাদের নাম, বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাবেক পদ এবং সংযুক্ত পদ উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ মে এটি জারি হলেও ১০ এপ্রিল থেকে এর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।


