সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত’ করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডসহ দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একইসঙ্গে তাদের কাছে জিম্মি থাকা চারজন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার ভোরে সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে বিসিজিএস তৌফিক-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এটি ষষ্ঠ সফল অভিযান।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রবিবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল তাদের ধাওয়া করে দুই ডাকাতকে ধরে ফেলে।
আটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের রামপাল থানার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোড়লগঞ্জ থানার রাজন শরীফ (২০)। এদের মধ্যে রাজন শরীফ এই বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ডাকাতদের কবলে জিম্মি থাকা ৪ জেলেকে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


