সুন্দরবনের ভেতরে ডাকাতের হাতে জিম্মি দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আটক করা হয়েছে ছয়জনকে।
কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
তিনি জানান, গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কাঠের বোটে করে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকা ভ্রমণের সময় ৫ জন পর্যটক, ১ জন মাঝি এবং রিসোর্ট মালিকসহ ৭ জনকে জিম্মি করে ডাকাত মাসুম মৃধার দল।
পরে তারা তিন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে।
এরপর কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথদল সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। পরে শনিবার ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪) এবং মেহেদী হাসানকে (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
সিয়াম-উল-হক আরও বলেন, পরবর্তীতে রোববার সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানার পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম অনুসরণ করে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময় ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।

এরপর রোববার সন্ধ্যা ৭ টায় সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালিয়ে জিম্মি করা দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকে অভিযান চলছে জানিয়ে সিয়াম-উল-হক বলেন, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


