চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ২৫ হাজার লিটার তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।
পাম্পগুলোতে তেলের জন্য সাধারণ মানুষের দীর্ঘ হাহাকার ও লাইনের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকাল থেকে ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বড় ট্যাংকারে এই বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত খুঁজে পায় জেলা প্রশাসন। এসব ট্যাংকার থেকে ড্রামে ভরে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হতো বলে অভিযানে জানা গেছে।
এর আগে, পতেঙ্গা এলাকা থেকেও প্রায় ৬ হাজার লিটার তেল জব্দ করেছিল প্রশাসন।
অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, দেশে বর্তমানে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং মানুষের মধ্যে অধিক পরিমাণে তেল মজুতের একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার আশায় তেল আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘যারা দেশের শান্তিকামী মানুষকে টেনশনের মধ্যে রেখে অসাধু ব্যবসা হাসিল করতে চায়, তাদের আমরা সতর্ক করে দিতে চাই। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেলের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৮টি মামলা করা হয়েছে। তবে ফৌজদারহাটের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের নাকের ডগায় রাস্তার পাশেই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সাধারণ চালক ও বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক পাম্প তেলের সংকটের কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে।’
অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


