সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয় হত্যা মামলায় সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার দুপুরে একথা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের জিআরও জুয়েল রানা।
তিনি জানান, অভিযোগপত্রে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে চারজন জামিনে এবং ১২ জন পলাতক রয়েছেন। আগামী ১৪ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণের উপর শুনানী হতে পারে।
এর আগে, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই অভিযোগপত্রে সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা, যুবলীগ নেতা এমদাদুল হক এমদাদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে অভিযোগপত্রের উপর নারাজি দিয়ে মামলাটি পুন:তদন্তের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ৩ নভেম্বর মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত শেষে সিআইডি রোববার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৬ জুন বিকালে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শোক সভায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে বের হন ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়। তিনি শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাব আহমেদ জিহাদ, ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন, আশিকুর রহমান বিজয়, সাগর ও জাহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর করেন। এ সময় তাকে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, পরে ঢাকা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয়দিন পর মারা যান বিজয়।
নিহত এনামুল হক বিজয় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার হাজী করোপ আলী সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি কামারখন্দ উপজেলার চালা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।


