ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপনের দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে। স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের মতে, এখানে একটি পাট কারখানা গড়ে উঠলে চাষিরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন, হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এলাকার দারিদ্র্য দূর হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী জেলা। এখানকার প্রায় ৭৫ শতাংশ চাষযোগ্য জমিতেই পাটের আবাদ হয়। বছরে জেলায় ২ লাখ টনেরও বেশি পাট উৎপন্ন হয়, যা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। আর এই ফরিদপুরের মধ্যে সালথা উপজেলাই হলো পাট চাষের প্রধান কেন্দ্র।
স্থানীয় চাষিরা জানান, সালথায় প্রচুর পাট উৎপন্ন হলেও কোনো কারখানা না থাকায় তা কাঁচামাল হিসেবে অন্য জেলায় পাঠিয়ে দিতে হয়। ফলে চাষিরা সঠিক দাম পান না। সালথাতেই একটি আধুনিক পাটকল থাকলে তারা সরাসরি মিলে ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারতেন। এতে ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে যেমন রক্ষা পাওয়া যেত, তেমনি পরিবহন খরচও বেঁচে যেত।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, পাটকল হলে কেবল কৃষিরই উন্নতি হবে না, বরং গাড়ি চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ছোট ছোট দোকানপাটও বাড়বে। বিশেষ করে নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা পুরো সমাজের চিত্র বদলে দেবে। তাছাড়া এখানে সস্তায় প্রচুর শ্রমিক পাওয়া যায়, তাই শিল্প বিনিয়োগের জন্য সালথা খুবই উপযুক্ত জায়গা।
এলাকার সমাজকর্মী মো. মুরাদ রহমান ও বেকার যুবক হন্নু মোল্লা জানান, সালথায় হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ পড়াশোনা শেষ করে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একটি পাটকল হলে এই যুবকদের স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা হতো।
খৈয়ার গ্রামের কৃষক মিলু শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে কষ্ট করে পাট বুনি, কিন্তু পাটের আসল দাম পাই না। এলাকায় মিল হলে আমাদের লোকসান কমত।’
সালথা উপজেলা যুবদলের নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, ‘কৃষিই আমাদের এলাকার মেরুদণ্ড আর পাট আমাদের প্রধান ফসল। অথচ কোনো কারখানা না থাকায় যুবকেরা বেকার থাকছে আর কৃষকেরা ঠকছে।’ তিনি অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে পাটকল স্থাপনের দাবি জানান।
সালথা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাচ্চু এবং স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার খাইরুল বাশার আজাদও মনে করেন, একটি পাটকল পুরো এলাকার অর্থনীতি ও ব্যবসাকে বদলে দিতে পারে।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর বলেন, ‘সালথার পাট দেশজুড়ে নামকরা, অথচ আমাদের পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়। এখানে মিল হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।’
এ বিষয়ে সালথার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘পাট আমাদের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল এবং সালথায় প্রচুর পাট উৎপাদিত হয়। এখানে একটি পাটকল হলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি এলাকার অর্থনীতিও সচল হবে।’ বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ফরিদপুর জেলা পাট দপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ফরিদপুরের মধ্যে সালথার পাট সবচেয়ে উন্নত মানের। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। এখানে একটি আধুনিক কারখানা করা গেলে কৃষকদের ভাগ্য যেমন ফিরবে, তেমনি পাট প্রক্রিয়াজাত করাও অনেক সহজ হবে।


