সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। সোমবার সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত রংপুর জেলা কর্মশালা-২০২৫ এ এসব কথা বলেন তিনি।
‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৬ষ্ঠ পর্যায় প্রকল্পের অধীনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এ কর্মশালা আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সামাজিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের ওপর। এ দেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস। সবাইকে নিয়েই আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
এখানে যদি অস্থিরতা কিংবা অসন্তোষ থাকে তাহলে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সকলের মনকে উদার ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি, যোগ করেন।
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করাকে জঘন্য কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, এদেশে বহুদিন ধরে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ, কটূক্তি, বক্রোক্তি কিংবা ব্যঙ্গ করার অসুস্থ মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা হীন প্রকৃতির মানুষেরাই করে থাকেন। ধর্ম অবমাননার অজুহাতে সহিংস ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ধর্ম অবমাননা যেমন আইনের চোখে অপরাধ তেমনি ব্যক্তি বিশেষের অপরাধে তাকে কিংবা সম্প্রদায়কে বেআইনিভাবে শাস্তি দেওয়া আরও বেশি অপরাধ।
‘আমরা অনেকেই আইন হাতে তুলে নিই। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে চাই না। আমরা মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলি। এমনকি মেরে আগুনে পুড়িয়েও ফেলি। কবর থেকে তুলে এনেও পুড়িয়ে দিই। বর্বরতারও একটি সীমা থাকা প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করলে তার জন্য আইন-আদালত আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়া যাবে না’ বলেও জানান তিনি।
দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধও করেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদার, উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) ছাদেক আহমদ, প্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসেন ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টি পরিতোষ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রকল্পের অধীনে দেশের সাত হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার প্রাক-প্রাথমিক, এক হাজার ৪০০ ধর্মীয় বয়স্ক ও একহাজার ধর্মীয় শিশু শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে।
এ সকল শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিবছর দুই লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলায় ১৪৯টি শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এ প্রকল্প শিক্ষাপ্রসারের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি তথা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।


