সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজের আগে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গোলাম সারোয়ার মিলন ছিলেন একজন বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী (১৯৮৬-৮৭), মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (১৯৮৬-৯০), মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৮১-৮২) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতা ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তার সাহসী নেতৃত্ব, স্পষ্টবাদিতা এবং দেশপ্রেমের জন্য।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ফাতেমা সারোয়ার, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে চলছে মাতম।
তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বাদ জোহর মানিকগঞ্জের সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। পরে বাদ আসর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কবিরাজ বাড়ি মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রামে তার জন্ম। সেই গ্রাম আজ নিস্তব্ধ, শোকাভিভূত। স্থানীয় মানুষদের চোখে জল, কণ্ঠে শুধুই স্মৃতিচারণ। একজন নেতার মৃত্যু নয়, যেন পরিবারের একজন আপনজনকে হারানোর বেদনা।
তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।


