জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এই দণ্ড পাওয়া বাকি দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরুলকে ছয় বছর, আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল গত মঙ্গলবার। কিন্তু রায় তৈরি না হওয়ায় সেদিন তা ঘোষণা করা হয়নি বলে জানায় প্রসিকিউশন।
মামলার আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়।
গত বছরের ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এটিই ছিল জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন।
২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। ১১ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।


