সাতক্ষীরায় সাদ্দাম হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই নারীর নাম তাছলিমা খাতুন (৩৫)। এরপর থেকে সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত তাছলিমা দেবহাটা উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামানের মেয়ে।
অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে নিহত নারীর বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২)।
শিশুটি বলে, ‘বাবা নেশা করে প্রায়ই আমার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করত এবং ছুরি নিয়ে হত্যার হুমকি দিত। এবার আমার দাদি, আমি ও আমার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) পাশের রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। মায়ের গোঙ্গানো শব্দ শুনে আমার দাদি আমাদের ডেকে তোলেব। দ্রুত মায়ের ঘরে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। রুমের ভেতর তখন রক্ত আর রক্ত।’
সাদিয়া জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিবেশীরা তাছলিমাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নারীর বাবা নুরুজ্জামান বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়ের উপর প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। টাকা দিলেই কিছুদিন ভালো থাকত। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারলেই আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলত। এভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করবে আমি ভাবতে পারেনি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।


