সাউন্ড বক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি

সাউন্ড বক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি
মাইকিং করে গান বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেটে গান বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে, এমনকি কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়নের বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী মাইকিং করে এ ঘোষণা দেয়। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামের একাংশের মানুষ।

মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, গত ২৭ মার্চ জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, গ্রামের কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স বা মাইকসেটে গান বাজানো হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হবে।

এমনকি মসজিদে তাদের কাছ থেকে কোনো অনুদানও নেওয়া হবে না। এক কথায় সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তার দাবি, কোরআনে গান-বাজনা নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে ও সুন্নতে খৎনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে অসুস্থ মানুষসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছিল, যার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী জানান, উচ্চ শব্দের কারণে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত এবং অসুস্থ মানুষের সমস্যা হয়। তাই সবাই মিলে সাউন্ড বক্স বাজানো নিষেধ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রুপা খাতুনের বাড়িতে তাদের এতিম নাতি আলিফের (৭) খৎনা অনুষ্ঠানে ঈদের পর একদিন সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। এ নিয়ে মুসল্লিদের আপত্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পরদিন বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে রুপা খাতুন বলেন, নাতির খুশির জন্য একদিন বক্স বাজানো হয়েছে। নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল, শব্দও কম ছিল। তবুও কিছু মানুষ শত্রুতা করে বিষয়টি বড় করছে।

বন্ধ হলে সারা দেশেই বন্ধ হোক, শুধু এখানে কেন?—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার মাইকিংয়ের ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান বাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। কেউ অতিরিক্ত শব্দ করলে তাকে নিয়ন্ত্রণ বা সচেতন করা যেতে পারে, প্রয়োজনে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এভাবে মাইকিং করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ঠিক নয়।

প্রতিটি মানুষ স্বাধীন। কারও ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না- এমন মন্তব্য করে কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

তবে মসজিদ কমিটির সভাপতি আমির হোসেন বলেন, ‘সব ধরনের গান-বাজনা বন্ধ করা হয়নি, শুধু উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাইকিংয়ে কী বলা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা বন্ধ করার সুযোগ নেই। আর জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad