সরকার ‘মেরিটোক্রেসির দেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তারেক রহমান

সরকার ‘মেরিটোক্রেসির দেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তারেক রহমান
Advertisement
Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার একটি মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই প্রধান বিবেচ্য হবে।

শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সেই অনুযায়ী জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নিজেদের মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো জরুরি। আধুনিক প্রশাসনে শুধু নিয়ম জানা যথেষ্ট নয়; তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ফলাফলমুখী করতে কাজ করছে। মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত কোর্স, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণমূলক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তাদের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা, ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি তারা। তাই এই দায়িত্ব প্রশাসনিকের পাশাপাশি নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্বও।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে বিবেচনা করতে।

প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সব সরকারি সেবা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য বিয়ামের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও মানবিক। নারী ও যুবসমাজকে উন্নয়নের প্রধান শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতাকে নীতিনির্ধারণের অংশ করতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad