সরকার জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও যশোরে তার প্রতিফলন নেই। রেশনিং তুলে নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেও চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। ফলে দুর্ভোগ কাটছে না সাধারণ মানুষের।
গত ১৪ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণপরিবহনে রেশনিং পদ্ধতি উঠিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান ঈদে মানুষকে আরও স্বস্তি দিতে সরকার রেশনিং তুলে নিচ্ছে। তবে সরকারের এমন ঘোষণার পরও চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা।
মোটরসাইকেল চালক আরিফুল রহমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বাংলাদেশ সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছিল। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আমরাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিলেও আমরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সকাল থেকে যশোরের বেশ কয়েকটি পাম্পে গেছি, কেউ আমার চাহিদামতো তেল দেয়নি। পাম্পের থেকে বলা হচ্ছে এখনো তেলের সংকট রয়েছে।’
আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘রোজা থেকে সিরিয়াল দিয়ে বসে আছি, তেল নিতে গিয়ে শুনি ২০০ টাকার বেশি তেল পাওয়া যাবে না। অথচ আমি এখন তেল না পেলে ছুটিতে গ্রামে যেতে পারব না। সরকারের সিদ্ধান্ত যদি পাম্প মালিকরা না মানেন, তাহলে এমন ঘোষণার মানে কি?’
শুধু অকটেন বা পেট্রল নয়, সংকটের আঁচ লেগেছে ডিজেলেও। যশোরের বেশিরভাগ পাম্পেই ‘ডিজেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ট্রাক ও লরি চালকরা।
ট্রাকচালক মতিয়ার বিশ্বাস বলেন, ‘সকাল থেকে অন্তত ১০টা পাম্পে গেছি, কেউ ডিজেল দেয়নি। এখন ডিজেল না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাম্পে ডিজেল থাকা সত্বেও আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। ইচ্ছা করেই এই সংকটের কথা বলা হচ্ছে।’
লরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি কাঁচামাল পরিবহন করি, এখন ডিজেল না পেলে মরণদশা হয়ে যাবে। রাজারহাট, মনিহার, নিউমার্কেট কোথাও তেল পেলাম না। সরকারের ঘোষণার পরও পাম্প মালিকরা তা মানছেন না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের আগে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’
পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মনির উদ্দীন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদি হাসান বলেন, ‘ডিপো থেকে চাহিদানুযায়ী তেল না পাওয়ার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমাদের চাহিদা ১০ হাজার লিটার, তেল পাচ্ছি ৫ হাজার লিটার। তাহলে সবার চাহিদামতো কীভাবে সরবারহ করব। আমরা সরবরাহ পেলে এই সংকট আর থাকবে না।’
এদিকে সরকারের ঘোষণার পরও কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে যশোরে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘যশোরের সব ফিলিং স্টেশনে রেশনিং পদ্ধতি বন্ধ করে স্বাভাবিক নিয়মে তেল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


