অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়া হয়েছে। দুর্বল রাজস্ব আদায়ের কারণে বাড়তি বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার এ ঋণ নিয়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে সরকারি ঋণের ওপর। ফলে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ডসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজের মাধ্যমে এক বছরে সরকারের মোট ঋণ ২৮ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারি সিকিউরিটিজের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত লাখ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঋণের স্থিতি ছিল অনেক কম।
মোট ঋণের বড় অংশই এসেছে ট্রেজারি বন্ড থেকে। এই খাতে সরকারের ঋণ ৫১ লাখ আট হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের থেকে ২৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার হার ৩১ শতাংশ বেড়ে ১৭ লাখ পাঁচ হাজার ৩১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
শরিয়াহভিত্তিক সুকুক বন্ডসহ অন্য সিকিউরিটিজ যোগ করার পর ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৬ লাখ আট হাজার ৮৫০ কোটি টাকায়। এই অঙ্ক দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ দশমিক ৯২ শতাংশের সমান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সঞ্চয়পত্রের মতো অ-বাণিজ্যযোগ্য সিকিউরিটিজ থেকে ঋণ নেওয়া কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাজেট বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের চাহিদার কারণে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সরকারি সিকিউরিটিজে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো। মোট ঋণের ৬৮ দশমিক ৮৭ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। বীমা কোম্পানি, ট্রাস্ট ফান্ড ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশ মাত্র ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।


