ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর দাবির মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ রাখছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার জারি করা সংশোধিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর গেজেটে এই পদ দুটি রাখা হয়নি।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের দুটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। এর পরপরই বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিষয় হিসেবে সঙ্গীত রাখার বিরোধিতা করে পথে নামে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাইর পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে এর পরিবর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
একই দিন জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ বেশিরভাগ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারাও সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির নিন্দা জানান। হেফাজতে ইসলামও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগকে সরকারের ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করে পুরো বিধিমালা বাতিলের দাবি জানায়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান বলেন, ‘আগের বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য চারটি বিভাগ রাখা হয়েছিল। সংশোধিত বিধিমালায় এর পরিবর্তে এখন দুটি বিভাগ রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ দুটি নতুন বিধিমালায় আর নেই।’
তবে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর দাবিতে এদুটি পদ বাদ দেওয়া হয়েছে কিনা এনিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

মাসুদ আকতার জানান, দুটি পদ বাদ দেওয়া ছাড়াও সংশোধিত বিধিমালায় একটি শব্দগত ভুল সংশোধন করা হয়েছে। আগের বিধিমালায় বলা হয়েছিল, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য এবং বাকি ৮০ শতাংশ পদ অন্য বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য। এক্ষেত্রে ওই ৮০ শতাংশ পদে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষক প্রার্থীরা আবেদন করতে না পারায় সংশোধিত বিধিমালায় ‘অন্যান্য বিষয়ের’ পরিবর্তে ‘বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়’ যুক্ত করা হয়েছে।


