সমুদ্র গবেষণায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের পরামর্শ প্রধান উপদেষ্টার

সমুদ্র গবেষণায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের পরামর্শ প্রধান উপদেষ্টার
যমুনায় বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
Advertisement
Advertisement

দেশের সম্ভাবনাময় জলভাগকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত জরিপ ও গবেষণা প্রতবেদন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি; এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সেজন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন হবে।’

জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে তাদের সাথে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’

গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিৎজফ নানসেনের সাহায্যে ওই জরিপ চালানো হয়। বাংলাদেশের ১৩ বিজ্ঞানীসহ আট দেশের ২৫ বিজ্ঞানী এ জরিপ পরিচালনা করেন।

বৈঠকে গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুন

বৈঠকে গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণির অস্তিত্ব এই গবেষণায় পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটা ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এটি হয়েছে।’

এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে যা গভীর উদ্বেগের কারণ বলে জানান তিনি।

২০১৮ সালের এক গবেষণার সঙ্গে তুলনায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় বড় মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীরে সমুদ্রেও আশঙ্কাজনকভাবে মাছ কমছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করে থাকে। এর মধ্যে ৭০টি সোনারের মাধ্যমে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এর ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছ যারা ধরেন, তাদের লাভ হলেও যারা স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরেন তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ের টুনা মাছের আধিক্য পাওয়া গেছে এবং এর সম্ভাবনাও আছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নৌযানটি সমুদ্রের তলদেশ, গভীরতা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad