শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ঢাকা–সিলেট ও সিলেট–চট্টগ্রাম সড়কের ছয় লেনের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
রোববার সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে সাময়িক যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল, তা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে টয়লেট, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।
পরে মন্ত্রী সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিক আবু তুরাবের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তুরাব যেদিন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেদিন একই মিছিলে আমিও ছিলাম। তুরাব সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। হাজারো জুলাই যোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে বর্তমান সরকার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ সরকার ভুলে যায়নি। শহীদ পরিবারগুলো জাতির শক্তির উৎস এবং তাদের প্রয়োজনে প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
ইফতার মাহফিলে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


