আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তবে হুমকি না থাকলেও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শেষ করতে বলেছেন তিনি।
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এবার সন্ধ্যা ৭টার আগেই প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে হবে। ঢাকায় একটা লাইন করে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। কার পরে কে বিসর্জন দেবে এর ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।’
পূজামণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে এ বছর কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এবার দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের হুমকি নেই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সারাদেশে পূজা উদযাপিত হবে। যারা দুষ্কৃতিকারী তারা সবজায়গাতেই বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক রয়েছে।’
এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে জানিয়ে তিনি বলেন,‘ ২৪ ঘণ্টা পূজামণ্ডপ পর্যবেক্ষণে থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আনসার নিয়োগ দেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপের দায়িত্ব দেওয়া হবে বিজিবিকে। তবে সারাদেশেই আনসার নিয়োগ দেওয়া হবে।’
পূজার সময় ২৪ ঘণ্টা যেন মণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণে থাকে, সে জন্য দিনে তিনজন করে ও রাতে চারজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নতুন অ্যাপ করে দিয়েছি, যাতে কোনো ঘটনা ঘটলে এটির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো যাবে।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এই উৎসব ঘিরে সন্ত্রাসী হামলাসহ যেকোনো নাশকতা রোধে ১৮ দফা নির্দেশনা তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যেখানে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব এবং আনসার ও ভিডিপির দৃশ্যমান টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে বলা হবে।
এছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এরূপ কোনো বক্তব্য বা গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পাহারার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও পাহারাদার নিয়োজিত করতে হবে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়ন করতে বলা হবে।
পূজামণ্ডপের ভেতরে ব্যাগ বা সন্দেহজনক কোনো কিছু নিয়ে কেউ যেন ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিমা যেন ভাঙচুর না হয়, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পূজা চলাকালে পটকা ও আতশবাজি পোড়ানো বন্ধসহ স্থায়ীভাবে আতশবাজির উপকরণ বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধকরণের লক্ষ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেসব পূজামণ্ডপে যাতায়াতের রাস্তা ব্যবহারের অনুপেযোগী, সেসব রাস্তা সাময়িক মেরামতের ব্যবস্থা নিতেও বলা হবে।


