প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সংস্কার ও নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ বিষয়ে তারা সময়সীমা দেয়নি।
শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকে বসে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।
বৈঠক শেষে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে সাংবাদিকদের জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা বলেছি, জনগণের ভোগান্তি যেন না হয়, সে সময়ে নির্বাচন দিতে। এর আগে সংস্কার ও বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। আরেকটি দল জুলাই ঘোষণার বিষয়ে কথা বলেছে। এটা তাদের ব্যাপার।’
‘নির্বাচনের আগে সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান হতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। আবার সব সংস্কার এই সরকার করতে পারবে না। মাত্র পাঁচটি সংস্কারে সরকার হাত দিয়েছে। সেগুলো সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘সবাই এগিয়ে এলে অর্থবহ সংস্কারের মধ্য দিয়ে অর্থবহ নির্বাচন হতে পারে। সবাই সেই দিনের অপেক্ষায়।’
‘গত কয়েকদিন দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত পরশুদিন প্রধান উপদেষ্টা একটা মেসেজ দিতে চেয়েছিলেন, যদিও তিনি দেননি। তারপরও দেশবাসী জেনে গেছে। তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। যতটুকু জানা গেছে, বিভিন্ন দাবিসহ সাম্প্রতিক আন্দোলনে কিছুটা মনোক্ষুণ্ণ ছিলেন তিনি। তাই এমনটা শোনা গিয়েছিল। আমরা মনে করি, দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে।’
‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বলেছেন, আমি যেনতেনভাবে থাকতে চাই না। সবাইকে নিয়ে থাকতে চাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, তারা কোনও রাজনৈতিক দলের থাকবেন না। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কিছু কথা উঠেছে। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা অংশগ্রহণমূলক ভোট চাই। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেননি প্রধান উপদেষ্টা।’
কোনও উপদেষ্টার পদত্যাগ চান কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।’
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।


