সংসদ ভবনের সামনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ভাঙচুর, আগুন

সংসদ ভবনের সামনে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ভাঙচুর, আগুন
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘রণক্ষেত্র’ সৃষ্টি হয়েছিল। দুপুর থেকেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ‘জুলাই যোদ্ধারা’। তাদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ছোড়ে সাউন্ড গ্রেনেডও।

জবাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। এসময় বেশ কয়েকজন আহন হন, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় সনদ সই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা তাঁবুসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুরো এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।

পরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।

বিক্ষোভকারীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা।

ধানমণ্ডি এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি বিক্ষোভকারীরা। ছবি: টাইমস
ধানমণ্ডি এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি বিক্ষোভকারীরা। ছবি: টাইমস

শুক্রবার বিকালে সনদ সইয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় আসতে শুরু করেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।

এক পর্যায়ে তারা পাঁচিল ও পুলিশের নিরাপত্তা পেরিয়ে মূল মঞ্চের সামনে চলে যান। কেউ কেউ হ্যান্ড মাইকে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে থাকেন। অনেকেই বিভিন্ন স্লোগান দেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করলেও তারা তা আমলে নেননি।

এ সময় পুলিশকে অবস্থানকারীদের লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অনেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

 

আরও পড়ুন

আহত এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
আহত এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

এক পর্যায়ে সংসদ ভবনের বাইরে রাখা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’, যার মধ্যে ছিল পুলিশের একটি বাসও। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা তাঁবুসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে। একদল মানুষকে লাঠি হাতে বিক্ষোভও করতে দেখা যায়।

এর আগেই জুলাই যোদ্ধাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তা না হলে বল প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা করে পুলিশ, এতে কয়েকজন আহতও হন। বিক্ষোভকারীদের আহতদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।’

তবে দুপুর ২টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে থেকে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সরিয়ে দেয় পুলিশ। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দুই পাশে দেওয়া হয় ব্যারিকেড। এরপর থেকে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের দুই পাশে অবস্থান নিয়েছেন।

সবশেষ খামারবাড়ি এলাকায় যেসব ‘জুলাই যোদ্ধা’ আগুন ধরিয়ে রাস্তা অবরোধ করছিলেন পুলিশ সোয়া ২টার দিকে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

এরপর আড়াইটার দিকে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে পুলিশ তাদের সাউন্ড গ্র‍্যানেড নিক্ষেপ করে ও ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। পরে সোবহানবাগ মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা।

তবে এ পরিস্থিতিতে জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠান আদৌ হবে কিনা, এ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা দক্ষিণ প্লাজায় যাবেন কিনা তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad