বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না হওয়া নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন।
রোববার প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি; এটি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা একটি প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ওই আদেশে মোট ১৫টি নির্দেশনা রয়েছে, যার মধ্যে তিন থেকে ১৫ নম্বর ধারা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, ১০ নম্বর ধারায় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, কোরাম ও ভোটদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিনের মধ্যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘রোববার সেই ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এখনো পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা আমাদের উদ্বেগের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভঙ্গ করতে পারেন এবং প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন।
‘সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালন করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন,’ যোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, ঠিক একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হলে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, সেটি হয়নি এবং এর সময়সীমা শেষ হয়েছে।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পরিষদ গঠিত হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং এরপর পরিষদের কার্যক্রম শেষ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন এবং শপথপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করা উচিত ছিল।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এরপর সরকারি দলের পক্ষে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান সালাহউদ্দিন আহমদ।


