জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে জাতীয় সংসদ এলাকায় মানববন্ধন করেছে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’। এতে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনে সরকারি দল বিএনপি টালবাহানার করছে বলে অভিযোগ করে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানবন্ধবে বক্তরা বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় ভোট ও গণভোটে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু ঈদের আগের সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। আইনি জটিলতার অজুহাতে গণভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
কর্মসূচিতে শতাধিক জুলাইযোদ্ধা, লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংসদ অধিবেশন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশের অনুরোধে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে, দুপুর ১টায় মানববন্ধন শেষ করা হয়।
আন্দোলনকারীরা রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তবে তারা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।
পরে বক্তব্যে বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম বিএনপির টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। সেই রায় গ্রহণ করতে পারলে গণভোটের রায় গ্রহণে আপত্তি কেন।’
‘জনগণ যে ভিন্ন বাংলাদেশ চায়, তা তারা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে। এখন আপনারা গদিতে আছেন, সেটাও জনগণের রায়। সেই রায় মেনে নিলে গণভোটের রায় মানতে সমস্যা কোথায়?’ যোগ করেন তিনি।
সংবিধানের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে শহিদুল আলম আরও বলেন, ‘সংবিধানে অনেক কিছু থাকলেও গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের মতো বাস্তবতা সেখানে উল্লেখ নেই। তবুও জনগণ এসব পরিবর্তনকে গ্রহণ করেছে। জনগণই সর্বোচ্চ। যদি সত্যিই জনগণকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করা হয়, তবে তাদের রায় উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই।’


