জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের রাষ্ট্রপতির আদেশকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণার দলিল’ আখ্যা দিয়ে এর কোনো বৈধতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার নেই। এটি কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়, ফলে এর সাংবিধানিক ভিত্তিও নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এটি বৈধ হতো, তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তা উপস্থাপন করা হতো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অসাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে কোনো বৈধতা অর্জন সম্ভব নয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের এই আদেশ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অবৈধ।’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের অধিকার রাখে না। সেই সরকার কীভাবে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে এমন আদেশ জারি করালো–তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এককভাবে এ ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা কার্যত রহিত হয়েছে। সংবিধানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা জনগণের হাতে এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামে যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, তা বাস্তবে অস্তিত্বহীন একটি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ, অধিবেশন আহ্বান কিংবা সিদ্ধান্ত কার্যকর—সবই সাংবিধানিক বিধানের বাইরে।
এ প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধন হওয়া উচিত। এ জন্য তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করে তা পাস করা উচিত।’ তার এ প্রস্তাবে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
শেষে তিনি সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


