সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া ও পরিধি নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে আলোচনা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থাকে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান নিয়ে দেশের সর্বস্তরে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যেও আনতে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ ধারার আওতায় ১২ সদস্যের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের আসনসংখ্যা অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে এবং তারা নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং বিরোধী দলের পাঁচ সদস্য যুক্ত হলে মোট ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে, তবে এখানে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায় এবং এ বিষয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন, তাই এই অধিবেশনেই মত দেওয়া সম্ভব নয়।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে সরকার অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্তও সময় নেওয়া যেতে পারে।
শেষে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং বিরোধী দল আলোচনা শেষে তাদের সিদ্ধান্ত জানালে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।


