কক্সবাজারের সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে উড়োজাহাজ আকৃতির অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে উড়োজাহাজ আকৃতির অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছিলো ‘ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেড’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার বিকেলে তড়িঘড়ি ওই স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
জেলা প্রশাসন জানায়, আদালতের নির্দেশনা ও শর্ত অমান্য করে স্থাপনা তৈরি করায় সেটি সরাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইরশাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কিছু করার নেই। প্রশাসন যখন সরাতে বলেছে আমরা সেটি সরিয়ে নিয়েছি।’
পরিবেশ সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সৈকতের বালিয়াড়িতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) অস্থায়ী বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে কঠোর তদারকি জারি রাখবে।’
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের ১০ হাজার ৪৬৫ হেক্টর এলাকাকে প্রাণবৈচিত্র্য, নির্মল জলরাশি এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদর মোকাম পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত, সৈকতের ঝাউ গাছসমৃদ্ধ ৩০০ মিটার উন্নয়ন নিষিদ্ধ ও ৫০০ মিটার সংরক্ষিত এলাকা। যেখানে সবধরনের স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ।
এছাড়াও এই নির্দেশনা মানতে উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকেও একটি আদেশ বলবৎ রয়েছে।


